Latest News

SUMMER COOLERS AT CAFECCINO What's New Life Q COURT NOW AT STAR MALL, BARASAT What's New Life যাদবপুরে ত্রিমুখী লড়াই হওয়া সত্ত্বেও কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয় মিমির What's New Life পশ্চিমবঙ্গের ১৮ আসনে বিজেপি'র জয় What's New Life বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে জয় গম্ভীরের What's New Life ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে চৌকিদার শব্দ সরিয়ে নিলেন মোদী What's New Life ২৯ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারও শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী What's New Life ফল প্রকাশের পর আর সংবাদ সম্মেলন করলেন না মমতা What's New Life নেহেরু-ইন্দিরার পর ইতিহাস গড়লেন নরেন্দ্র মোদী What's New Life পদত্যাগের পথে রাহুল গান্ধী What's New Life
১৮ মাসের শিশুটিরও রেহাই মেলেনি

হিবা নাসিরের বয়স মাত্র ১৮ মাস। ঠিকমতো কথা বলা শেখেনি এখনো। বিশ্বজগতের দ্বন্দ্ব-সংঘাত কোনো কিছুই বুঝার মতো পরিপক্বতাও আসেনি। কিন্তু কলহপূর্ণ এই পৃথিবীতে জন্ম নেয়াই যেন তার কাল হয়েছে। সভ্য সমাজের আর দশটি শিশুর মতো খেলনা নিয়ে সময় কাটানোর পরিবর্তে তাকে এখন চোখে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
জগতের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোলে থাকা অবস্থাতেই ঘাতক পেলেট আঘাত হেনেছে তার চোখে। পেলেট হলো বিশেষ ধরনের গুলি যাতে সাধারণত আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রাণহানি হয় না, কিন্তু আক্রান্ত জায়গা ছিদ্র হয়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ১৮ মাসের শিশু হিবার চোখে আঘাত হেনেছে এমনই একটি পেলেট।
ভাগ্য সহায় না হলে হিবার পেলেট আক্রান্ত চোখ হয়তো চিরতরে দৃষ্টি ক্ষমতা হারাবে। এটি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার কাপরান গ্রামের ঘটনা। এই অঞ্চলটিতে প্রায়ই বিদ্রোহী মুসলিমদের সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত বাধে। ২৩শে নভেম্বর এমনই এক সংঘাতের সময় হিবা বাড়ির ভেতরে মা মুরসালা জানের কোলে খেলা করছিল।

কিন্তু কলহপূর্ণ বিশ্বজগৎ তার এই আনন্দপূর্ণ সময় কাটানো যেন মেনে নিতে পারেনি। অকস্মাৎ এক পেলেট তার চোখে আঘাত হেনে বিদ্বেষপূর্ণ পৃথিবীর প্রকৃতি বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন চোখে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটে তার। সঙ্গে রয়েছে পুরোপুরি দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা। এ অবস্থাতেই কখনো কখনো বাড়ির আঙিনায় প্রিয় তিন চাকার সাইকেলে চড়তে উদ্যমী হয়ে ওঠে সে। কিন্তু বাইরের ধুলাবালি চোখে প্রবেশ করলে ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় হিবাকে বাইরে যেতে দেন না মা মুরসালা জান। তার আধো আধো কথা বলা আগের চেয়ে এখন অনেকটাই কমে গেছে। চোখে যন্ত্রণা বাড়লে মাঝে মাঝে হাত দিয়ে ব্যথার জায়গা দেখিয়ে দেয় সে।
ডাক্তার বলেছে, সে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরিভাবে হারাতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ পেলেটের আঘাতে আংশিক বা পুরোপুরিভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে অস্থির এই অঞ্চলে বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী শটগান দিয়ে এই পেলেট নিক্ষেপ করে। আর এর সর্বশেষ ও সবচেয়ে কম বয়সী শিকার হয়েছে শিশু হিবা নাসির। নিষ্পাপ এই শিশুর চোখে পেলেট আঘাত হানার ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।
এমনকি বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেট ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। হিবার মা মুরসালা জান আল জাজিরাকে বলেন, বাইরে প্রচুর টিয়ার গ্যাস মারা হচ্ছিল। এর তীব্রতায় বাড়ির মধ্যে থাকার পরেও আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। অনেকে বমিও করতে শুরু করেছিল। আতঙ্কিত হয়ে শিশুরা বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মুরসালা জান তার শিশুদের ঘরের ভেতরেই আটকে রাখেন। তিনি বলেন, বমি করতে করতে তাদের চোখ লাল হয়ে উঠেছিল।

এটা দেখে আমি ঘরের দরজা খুলে তাদেরকে বারান্দায় নিয়ে আসি। এমন অবস্থায় পেলেট ছোড়া দেখে আমি আমার ছেলেকে ঘরের ভেতরে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু সে পড়ে যায়। আরেক হাত দিয়ে আমি হিবাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই ঘাতক পেলেট তার নিষ্পাপ মুখকে রক্তাক্ত করে দেয়। বাইরে গিয়ে আমি চিৎকার করতে থাকি। বাইরে একদল যুবক রক্তাক্ত হিবাকে দেখে তাকে মোটরসাইকেলে করে পাশের জেলার হাসপাতালে নিয়ে যায়। খানিক বাদে আমি হাসপাতালে পৌঁছাই। হিবার চোখের জখম গুরুতর হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রধান শহর শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এদিন কাপরান গ্রামে বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে ছয় বিদ্রোহীসহ এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এই সংঘর্ষস্থলের ঠিক পাশেই হিবার বাড়ি।
মুরসালা জান বলেন, হিবার জীবনের ওপর যে অন্ধকার নেমে এসেছে তার মেয়ের এখনো এটা বোঝার মতো বয়স হয়নি। এমনকি ঠিক কোথায় আঘাত লেগেছে তাও নির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না। শুধু আঙুল দিয়ে চোখের দিকে ইঙ্গিত করছে। একবারের জন্যও সে চোখ বন্ধ করেনি। সম্ভবত চোখ বন্ধ করলে সে অনেক বেশি ব্যথা অনুভব করছে। আহত হওয়ার পর থেকে সে এখনো ভালোমতো ঘুমাতে পারেনি। কয়েকদিনে তার উচ্চারিত শব্দ হলো- বিস্কুট, মামা ও চোখ। তিনি বলেন, তার চোখের পরিবর্তে আমাকে আঘাত করলেও এতটা কষ্ট লাগতো না। ছোট্ট এই মেয়ের দুর্ভোগ আমার সব সুখ ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি জানি না তার ভবিষ্যৎ কেমন হবে। পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি ফিরে না পেলে এই অক্ষমতা নিয়ে সে কিভাবে জীবন কাটাবে? কেউই এই বিষয়ে ভাবে না।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Vinci Da The Curse Of The Weeping Woman Dumbo Jyeshthoputro Avengers: Endgame Student Of The Year 2 Blank Chhota Bheem: Kung Fu Dhamaka Konttho Pokemon Detective Pikachu
What's New Life
Inline
Inline