Latest News

ছোট থেকেই খুব স্বাধীনচেতা, জানালেন অনিন্দিতা What's New Life ক্যাটরিনার সাথে তাঁর ঝামেলার খবর মিথ্যে, সাফ জানালেন আলিয়া What's New Life অমিত শাহের বাবা-মা’য়ের জন্ম সার্টিফিকেট আছে, প্রশ্ন মমতার What's New Life স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ৩০জন বন্দি ভারতীয়কে মুক্তি দিল পাকিস্তান What's New Life ভারতবর্ষের মুখ সারা বিশ্বে উজ্জল হয়ে উঠুক, মৌবনি What's New Life এবার সব কন্যাকেই কন্যাশ্রী'র সুবিধা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর What's New Life ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজধানীতে সমাবেশের ডাক বিএনপির What's New Life লন্ডন পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকে পড়লো গাড়ি What's New Life কোটা সংস্কারে মুক্তিযোদ্ধা ইস্যুতে কিছুটা সংশয়ে সরকারি কমিটি What's New Life মেহুল চোকসিকে ভারতে ফেরানো হবে না, সাফ জানালো অ্যান্টিগুয়া সরকার What's New Life
সুন্দরবনের গপ্পো (প্রথম পর্ব)

কলেজ জীবন পেরিয়ে সবে উড়তে শিখেছি৷ ক্লাসমেট মৈনাক উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের এক হোস্টেলে ডাক্তারি পড়ার জন্য শহরবাসী৷ মাঝেমধ্যেই ওর হোস্টেলে হানা দিতাম৷ গল্পগুজব, আড্ডা, কলকাতায় সিনেমা – থিয়েটার দেখা, এসবের জন্য মৈনাকের হোস্টেলই তখন ভরসা৷ তখন কলকাতায় রাত্রিবাসের একমাত্র আস্তানা৷ বেশ কয়েকবার থাকার সুবাদে ওর সহপাঠী বন্ধুরা এখন আমারও বন্ধু হয়ে উঠেছে৷ টিউশনির টাকায় হাতখরচ সামলে শখ-আহলাদ মেটাতে হয়, বেড়ানোর নেশা তখনও গ্রাস করেনি৷ মোবাইল ফোন দূর অস্ত, নিজের ক্যামেরাই ছিল না৷ হঠাৎ একদিন দু’জনে ঠিক করে ফেললাম বেড়াতে যাব, সুন্দরবন৷ কিছুই চিনি না, নিজেদের বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও নেই, সুন্দরবনের শুধু নামটাই জানতাম৷ ম্যাগাজিন ঘেঁটে ট্যুর-প্ল্যান করে ফেলা হল৷

সালটা সম্ভবত ১৯৯৮, সেটা ছিল জুনের শেষ৷ বর্ষা বেশ ঘটা করেই এসে গেছে৷ বইটই ঘেঁটে মৈনাকই জায়গার সুলুক-সন্ধান করলো৷ বাবুঘাট থেকে বাসে সোনাখালি, সেখান থেকে ভুটভুটি নৌকায় বাসন্তী হয়ে গোসাবা, তারপর সাইকেল ভ্যানে চেপে পাখিরালা গ্রাম হয়ে সজনেখালি দ্বীপ ! রাস্তার ফিরিস্তি শুনে তো চক্ষু চড়কগাছ ! পৌঁছাবো কখন !

হোস্টেল থেকে সক্কাল সক্কাল দুগ্গা দুগ্গা বলে দু’জনে বাবুঘাটে হাজির হলাম৷ গিয়েই শুনি সোনাখালির বাস এই মুহূর্তে নেই, ফিরতি বাস এলে তবেই পাওয়া যাবে৷ খুবই হতাশ হয়ে গেলাম৷ আধঘন্টাটাক অপেক্ষা করেও যখন কোন লাভ হল না, তখন চটজলদি সিদ্ধান্ত নিলাম বিকল্প রুটের৷ যদিও সেটা আরও ঝক্কির৷ শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে ক্যানিং লোকালে চড়লাম৷ ভিড়েঠাসা ট্রেনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কোনক্রমে দুটো বসার সিট পেলাম৷ হরেক হকারের হৈচৈ ! মুখরোচক নানান খাবার, এগুলো দিয়েই ব্রেকফাস্ট সারা হল৷ প্রথমবার এরকম অভিভাবকহীন ট্যুরে বেড়ানো, একটা অজানা আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ এ যেন স্বাবলম্বী হওয়ার পরীক্ষা ! উত্তীর্ণ না হলেই যেন বাড়ি ফিরে তিরস্কার জুটবে ! ঘন্টাদেড়েক ট্রেনে চেপে ক্যানিং পৌঁছে সাইকেল ভ্যানে ডকঘাট অর্থাৎ ফেরিঘাট গেলাম৷ গিয়েই আবার অবাক হওয়ার পালা৷ নদী পারাপার করতে গিয়ে দেখি প্রায় মাঝনদী পর্যন্ত চড়া পড়েছে ! ভাটা চলছে তাই কাদা মাড়িয়েই নৌকায় উঠতে হবে৷ অগত্যা পালিশ করা বুটজুতো হাতে নিয়ে প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে কোনমতে টাল সামলে নৌকায় উঠলাম৷ আমরা কাদায় নামলাম, আর জামা- প্যান্ট ঘটা করে ইস্ত্রি করার পয়সাটা জলেই গেল ! উপায়ই বা কি !

নদী পেরিয়ে এবার অটো চেপে সোনাখালি৷ সূর্যদেব তখন মধ্যগগনে, আমাদের পেটে ছুঁচোর কেত্তন ! মাছ – ভাত দিয়ে মধ্যাহ্নভোজন সেরে আবার ভুটভুটি নৌকায়৷ সহযাত্রীরা সকলেই স্থানীয়৷ সঙ্গে কারও সাইকেল, বাজারের বস্তা, এমনকি পোষ্য ছাগলও আমাদের সফরসঙ্গী ! অফ্সিজন, তাই কোন ট্যুরিস্ট নেই, এই ঘোর বর্ষায় আসবেই বা কে ! আমাদের দু’জনকে এই অসময়ে যেতে দেখে সবাই অবাক ! এই বর্ষায় সুন্দরবন !

নদীতে এখন ভরা জোয়ার৷ দূরে দিগন্তের সবুজ ক্ষীণরেখা সুবিশাল আকাশ আর বিস্তৃত জলরাশিকে আলাদা করেছে৷ নদীর তীরে নৌকার অপেক্ষায় যাত্রীরা৷ মাঝেমাঝেই ছোট্ট ছোট্ট ঘাটে নৌকো নোঙর করছে, আর যাত্রীরা ওঠানামা করছেন৷ আজ সকাল থেকে আর বৃষ্টি হয়নি৷ সূর্য সারাদিন মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে ক্লান্ত হয়ে দিগন্তের কোলে ক্রমশ ঢলে পড়ছে৷ আমাদের মনে চাপা টেনশন শুরু হলো কখন পৌঁছাবো, কোথায় থাকবো, কি খাবো ? সন্ধ্যা নামার আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে না পেলে কি হবে ? অচেনা – অজানা জায়গায় অসময়ে এসে কি বিপদ ডেকে আনলাম ?
(ক্রমশঃ)

ছবি সৌজন্যে – কৌশিক ব্যানার্জী

সুন্দরবনের গপ্পো (প্রথম পর্ব)
Fanney Khan Mulk Karwaan Nawabzaade হ্যাপিপিল পিউপা অস্কার ভুবন মাঝি Mission impossible fallout Crisscross The Meg vishwaroopam 2
What's New Life