Latest News

অতিথিদের আমরা উপহার আর রসগোল্লা দিয়ে স্বাগত জানাই, এটা আমাদের ঐতিহ্য : মমতা What's New Life জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি উত্তরপ্রদেশে What's New Life চীনের ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ-এ মহড়ায় বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ ‘প্রত্যয় What's New Life স্মার্ট বাল্ব আসলে কি What's New Life চিফ জাস্টিস রঞ্জন গগৈকে কালিমালিপ্ত করতে ১.৫ কোটি টাকার প্রস্তাব What's New Life আবার বিস্ফোরণ শ্রীলঙ্কার পুগোদা শহরে What's New Life প্রথমবারের মতো বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন এবং কিম জং উন What's New Life কিভাবে সুস্থ রাখবেন নিজেকে অ্যালার্জির থেকে, জেনে নিন What's New Life ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ সৌদি আরবে What's New Life পাঞ্জাবকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইলো আরসিবি What's New Life
আজম খান কুরুচিকর মন্তব্য, জয়া প্রদার পোশাক নিয়ে

 

চলমান লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাকযুদ্ধ যখন তুঙ্গে তখন দেশটির উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রভাবশালী নেতা আজম খানের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে নারীদের বিরুদ্ধের ‘সম্ভ্রমহানির অভিযোগ’। অভিনেত্রী ও বিজেপি প্রার্থী জয়া প্রদাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দেশটির জাতীয় মহিলা কমিশন।

রামপুর কেন্দ্রের প্রার্থী আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, নাম না করলেও এই বিতর্কিত মন্তব্য তার প্রতিদ্বন্দ্বী রামপুর কেন্দ্রেরই বিজেপি জয়াপ্রদাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে আজম খানের প্রার্থিতা বাতিলের আর্জি জানাবেন তারা। জয়াপ্রদার প্রতিক্রিয়া, ‘উনি জিতলে গণতন্ত্রের কী হবে? তাই ওকে ভোটে লড়তে দেয়াই উচিত নয়।’

অন্য দিকে চাপে পড়ে এখন নানা সাফাই দিচ্ছেন আজম খান। বলছেন, তার টার্গেট জয়াপ্রদা নন, অন্য এক আরএসএস কর্মী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার কথাও বলেছেন। ভুল ব্যাখ্যা করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন দেশটির সংবাদ মাধ্যমকে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রামপুর এলাকায় একটি নির্বাচনি জনসভায় আজম খান বলেছিলেন, ‘আমি ওনাকে রামপুরে নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা সাক্ষী আছেন, আমি কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত দিইনি। আপনাদের তার প্রকৃত রূপ চেনাতে ১৭ বছর লেগে গেল। কিন্তু আমি ১৭ দিনেই বুঝে গিয়েছিলাম, উনি খাকি অন্তর্বাস পরেন।’ আজম খান যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন মঞ্চেই ছিলেন এসপি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও। কিন্তু তাকেও প্রতিবাদ করা বা আজম খানকে থামাতে দেখা যায়নি।

রামপুরের বিজেপি প্রার্থী অভিনেত্রী জয়াপ্রদাকে লক্ষ্য করেই এই কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন আজম খান। আর তার পর থেকেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে নানা মহলে। তার পরই সোমবার সকালে আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।

পুলিশেই অবশ্য বিষয়টি থেমে নেই। সোমবার জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা টুইটারে লিখেছেন, ‘আজম খান সব সময় মহিলাদের নিয়ে নোংরা কথা বলেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। মহিলা কমিশন স্বতপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করবে এবং তাকে নোটিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখছি। কারণ, এ বার ওর উচিত শিক্ষা হওয়া উচিত। ওকে থামানোর এটাই আদর্শ সময়। মহিলারা যৌন পণ্যের বিষয় নয়। আমি মনে করি, মহিলাদের ওকে ভোট দেয়াই উচিত নয়।’

জয়াপ্রদাও টুইটারে তার মন্তব্যে বলেন, ‘আমার কাছে এটা নতুন নয়। আপনারা জানেন, আমি ২০০৯ সালে ওর দলেরই প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু উনি যখন আমার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন, তখন কেউ আমার পাশে দাঁড়াননি। উনি কী বলেছিলেন, সেটা আমি মুখে উচ্চারণও করতে পারব না। আমি জানি না, আমি ওর কী করেছি যে আমাকে নিয়ে এমন কথা বলেন।’

একই সঙ্গে তার টুইট, ‘ওকে ভোটে লড়তে দেয়াই উচিত নয়। কারণ, এই ব্যক্তি ভোটে জিতলে গণতন্ত্রের কী পরিণতি হবে? সমাজে মহিলাদের কোনো সম্ভ্রমই থাকবে না। আমরা তাহলে কোথায় যাব? আমি মরে গেলে আপনি খুশি হবেন? আপনি ভেবেছেন, আমি ভয় পেয়ে রামপুর ছেড়ে যাব? কিন্তু সেটা কখনোই হবে না।’

এফআইআর দায়েরের পরে আজম নিজের সাফাই গেয়ে বলেছেন, ‘ওই বক্তব্য আমি এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছি, যিনি আমাকে খুন করার জন্য ১৫০ বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমার দলের নেতারাও ভুল করেছেন। এখন সেটা প্রমাণিত হয়েছে, যে ওই ব্যক্তি এক জন আরএসএস সমর্থক, অর্থাৎ তার পরনে আরএসএস-এর খাকি হাফ প্যান্ট। হাফ প্যান্ট তো ছেলেরাই পরে।’

আজম খানের দাবি, ‘আমি রামপুরের ন বারের বিধায়ক। মন্ত্রী ছিলাম। আমি জানি, কী বলতে হয়। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন আমি কারও নাম বলেছি, বা কাউকে নাম করে অপমান করেছি, তা হলে এবারের লোকসভা ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আমার প্রার্থীপদই প্রত্যাহার করে নেব।’

সংবাদ মাধ্যমকে এক হাত নিয়ে তার মন্তব্য, আমি হতাশ। সংবাদ মাধ্যম আমাকে পছন্দ করে না। আমিও ওদের পছন্দ করি না। ওরা আমাদের দেশের অনেক ক্ষতি করেছে।

জয়াপ্রদাকে লক্ষ্য করে আজম খানের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। বিজেপি জয়াপ্রদাকে প্রার্থী ঘোষণার পরই তাকে ‘নাচনেওয়ালি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন আজম। এছাড়া জয়াপ্রদার কুরুচিকর ছবি বানিয়ে সেগুলো ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই বিষয়টি উল্লেখ করে একটি জনসভায় কেঁদেও ফেলেছিলেন জয়াপ্রদা। কিন্তু তার পরও থামেনি আজমের আক্রমণ।

রামপুর কেন্দ্র থেকেই প্রথম সাংসদ হন জয়াপ্রদা। সেটা ২০০৪ সালে সমাজবাদী পার্টির অধীনে। পরের বার ২০০৯ সালেও মুলায়মের দলের হয়েই রামপুর কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। কিন্তু পরের বছর ২০১০ সালে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে তাকে বহিষ্কার করে এসপি। ২০১৪ সালে অজিত সিংহর রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি)-র মনোয়নে বিজনৌর কেন্দ্র থেকে দাঁড়ালেও হেরে যান জয়াপ্রদা। এর পর সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়ে এবার লোকসভা ভোটে ফের রামপুরেই প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Romeo Akbar Walter Kalank The Tashkent Files Vinci Da Tarikh Misha The Curse Of The Weeping Woman Dumbo Shazam
What's New Life
Inline
Inline