Latest News

Pairing Bangla Ranna With Wine What's New Life Rubayyat has come up with a new song 'Eseche Durga Maa' this puja What's New Life গ্রীস-তুর্কী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬ What's New Life দেশীয় মেসেজিং অ্যাপ এসএআই তৈরি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী What's New Life আইপিএল ২০২০🏏প্লে-অফে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স What's New Life 🇧🇩কোরান অবমাননার অভিযোগ, যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে পুড়িয়ে দেওয়া হলো What's New Life নিস হামলা নিয়ে বিতর্কিত ট্যুইট মাহাথির মহম্মদের 🇲🇾 What's New Life নাম পরিবর্তন হচ্ছে অক্ষয় কুমার অভিনীত ছবির What's New Life 🇫🇷 আবারো ফ্রান্সের রাস্তায় শিরচ্ছেদ, নিহত ৩ What's New Life Femina Miss India 2020 goes Digital What's New Life
www.webhub.academy

দু’দিনের বৈঠকে টোকিওতে কোয়াডের চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উদ্বিগ্ন চীন

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন‘ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে কোয়াড নামে সংলাপের সূচনা হয়। এর আওতায় ওই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোকিওতে মঙ্গলবার থেকে দু’দিনের বৈঠকে বসছেন। দশ বছর থমকে থাকার পর কোয়াড সংলাপ ২০১৭ সাল থেকে নতুন করে জীবন ফিরে পেলেও সম্প্রতি টোকিওর এই বৈঠক নিয়ে এক বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর প্রধান কারণ এই বৈঠকটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, প্রধান বৈরী এই চার দেশের মধ্যে বৈঠককে কেন্দ্র করে চীন বেশ উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। মঙ্গল ও বুধবার টোকিওতে কোয়াডের এই বৈঠক চলার সময় একই সাথে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
কোয়াডের চারটি সদস্য দেশের মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু চীনকে আটকাতেই যে এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ, পরিষ্কার করে তা কখনই বলা হয়নি।
এমনকি এসব বৈঠক নিয়ে এই চারটি দেশের সরকারের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যেসব ঘোষণা দেয়া হয়েছে বা যেসব নথিপত্র চালাচালি হয়েছে, তার কোথাও চীন শব্দটিই নেই।

কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, টোকিও বৈঠকে তা বদলে যেতে পারে। কারণ যে দেশটি এই প্লাটফর্মকে প্রকাশ্যে ‘চীন-বিরোধী‘ তকমা দিতে সবচেয়ে বেশি কুণ্ঠিত ছিল সেই ভারত তাদের অবস্থান অনেকটাই বদলে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যাস লিখেছেন, পরিস্থিতি এখন অন্যরকম কারণ, এই চার দেশের সবাই এখন চীনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রশ্নে একমত।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে কোয়াড প্লাটফর্মকে একটি প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চীনকে নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার আড়ষ্টতা। চীনকে কতটা কোণঠাসা করা উচিৎ তা নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যে দ্বিধা ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা সবাই একমত।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আমার সবসময় মনে হয়েছে কোয়াডে দূর্বল ছিল ভারত। কিন্তু ভারত মনে হয় তার অবস্থান বদলে ফেলছে। এখন মনে হচ্ছে চারটি দেশই চীনের বিষয়ে একমত।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজও মনে করেন, ভারতের বর্তমান সরকারের মধ্যে এখন এমন বিশ্বাস দিনকে দিন দৃঢ় হচ্ছে যে কেবলমাত্র সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়েই চীনকে সামলানো সম্ভব।

তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান সরকার মনে করছে চীন ভারতের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্বার্থ-প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং এ থেকে চীনকে বিরত রাখতে হলে শক্তির ভয় দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই।

তার মতে, অন্য দেশের সাথে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে ভারত এখন প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ভরদোয়াজ গত সপ্তাহে কোয়াড সম্পর্কে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

বৃহস্পতিবার এক বক্তৃতায় জেনারেল রাওয়াত বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এবং আশপাশের অন্যান্য মহাসাগরে আতঙ্ক-উস্কানি ছাড়া চলাফেরা, অন্য কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করতে কোয়াডের গুরুত্ব অনেক।

তিনি আরও বলেন, সাগরে এবং আকাশে অবাধ গতিবিধি নিশ্চিত করতে ভারত উদগ্রীব। কোনো দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তবে জেনারেল রাওয়াত এখানে চীনের কথাই বলেছেন সেটা স্পষ্ট।

তবে ভারতের এই অবস্থান যে রাতারাতি বা গত জুন মাস থেকে তৈরি হয়েছে তা নয়। গত দশকের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরে চীনা সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়।

পাশাপাশি পাকিস্তানকে চীনের অব্যাহত সামরিক সাহায্য, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ, কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে চীনের পরিকল্পনা-এসব নিয়ে ভারতে উদ্বেগের পারদ বাড়ছে।

সে কারণে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে ২০১৪ সাল থেকে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্কে যে অনাস্থা-অবিশ্বাস বাড়ছে, তাতেই ১০ বছর পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই কোয়াডের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়তে আগ্রহী।

অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, ইউরোপের সামরিক জোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগ্রহ কমলেও, মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে এশিয়ায় ন্যাটো ধাঁচের একটি জোট গঠনে আমেরিকা আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

তবে শুধু ভারত নয়, কোভিড মহামারি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের এক প্রস্তাব দেওয়ার পর তাদের সাথেও চীনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস এবং বার্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। অস্ট্রেলিয়ান মদ এবং আরো পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনা করছে দেশটি।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের বাকি দেশগুলোকে গুয়ামে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ একটি বিমান মহড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া আন্দামানের কাছে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারতের যে নৌ-মহড়া হচ্ছে, তাতে সামনের বছর অস্ট্রেলিয়াও যোগ দেবে।

কিন্তু ভারতের সরকার চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ ধরণের সামরিক জোটের অংশ হওয়ার পরিণতি নিয়ে এখনও দেশটির অনেকের ভেতরেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চীনের মোকাবিলা করা নিয়ে ভারতে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। কৌশলগত এবং বৈদেশিক নীতির যে স্বাধীনতা এখন ভারতের রয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

ভারত আমেরিকার তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে পড়ে কি-না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এছাড়া অর্থনীতির উন্নয়ন হুমকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রবল।

এদিকে, চীন ২০০৭ সাল থেকে এই চার দেশের মধ্যে দহরম-মহরমকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ওই বছরের মার্চে ম্যানিলায় আসিয়ান জোটের বৈঠকের সময় এই চার দেশ প্রথম যখন একটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাথে সাথেই ওই দেশগুলোর কাছে প্রতিবাদ জানায় চীন। কী নিয়ে কথা হবে, তাও জানতে চায় তারা।

টোকিওর বৈঠক নিয়ে দু’দিন আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো একটি দেশকে টার্গেট করে কোনো জোট তৈরি একেবারেই কাম্য নয়। চীনা মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, অন্য একটি দেশকে টার্গেট করে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে, আঞ্চলিক দেশগুলোর বরঞ্চ উচিথ নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস, বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা।

একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারত এরা সবাই পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ। ১৯৪৫ সালের পর পৃথিবী পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখেনি। কোনো যুদ্ধ বাঁধলে হঠাৎ কেউ সেই অস্ত্র ব্যবহার করবে কি-না, করলে তার পরিণতি কি হবে, কে সেই যুদ্ধ থামাবে তা নিয়ে সবার মধ্যেই গভীর শঙ্কা রয়েছে।

Facebook Comments

KOLKATA WEATHER
www.webhub.academy
Thappad Shubh Mangal jyada Saavdhan Bhoot Love Aaj Kal Porshu Love Aaj Kal (लव आज कल 2) Professor Shonku Bombshell The Grudge অসুর রবিবার Sanjhbati
What's New Life